চলতি বোরো মৌসুমে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কজুড়ে ধান শুকানো, খড় ছড়িয়ে রাখা এবং ধান মাড়াইয়ের দৃশ্য এখন নিত্যদিনের চিত্র হয়ে উঠেছে। কৃষকেরা এসব কাজে ব্যস্ত থাকলেও এতে ভোগান্তি ও ঝুঁকির মুখে পড়ছেন যানবাহন চালক ও সাধারণ পথচারীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকার প্রধান ও উপ-সড়কের বড় অংশজুড়ে ধান শুকানো হচ্ছে। কোথাও কোথাও রাস্তার ওপর খড় ছড়িয়ে রাখা হয়েছে। ফলে সড়কের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং যানবাহন চালকদের সতর্কতার সঙ্গে চলতে হচ্ছে।
স্থানীয় যানবাহন চালকদের অভিযোগ, রাস্তার ওপর ধান ও খড় ছড়িয়ে রাখার কারণে গাড়ি নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক সময় সড়কের গর্ত বা ভাঙা অংশ ধান ও খড়ের নিচে ঢেকে থাকায় তা আগে থেকে বুঝতে পারা যায় না। ফলে হঠাৎ ব্রেক করতে গিয়ে বা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
কাজিপুরের কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক জানান, সড়কের ওপর ধান ও খড় থাকলে চাকার গ্রিপ কমে যায়। এতে সামান্য অসতর্কতায়ও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতের বেলায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
অন্যদিকে কৃষকেরা বলছেন, খোলা মাঠ বা পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে তারা বাধ্য হয়ে সড়কের ওপর ধান ও খড় শুকান। রাস্তার ওপর বেশি সময় রোদ থাকে এবং দ্রুত ধান শুকিয়ে যায় বলেও জানান তারা।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, কৃষিকাজের সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সড়কে নিরাপদ চলাচলও নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য ইউনিয়ন পরিষদ, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা সড়কে ধান-খড় শুকানোর বিকল্প ব্যবস্থা এবং এ বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।