দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বর্ষার বৃষ্টির সঙ্গে ঘন ঘন বজ্রপাত ও বিদ্যুৎ চমকানোর ঘটনা বেড়েছে। আবহাওয়ার এই বৈরী পরিস্থিতিতে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে—এ ধরনের প্রাকৃতিক ঘটনার সময় ইসলাম কী শিক্ষা দেয় এবং একজন মুসলমানের করণীয় কী?ইসলামি শিক্ষায় বজ্রপাত, মেঘের গর্জন ও বৃষ্টি মহান আল্লাহর অসীম ক্ষমতার নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, তিনি মানুষকে ভয় ও আশার জন্য বিদ্যুতের ঝলক দেখান এবং ভারী মেঘমালা সৃষ্টি করেন।ইসলামি স্কলারদের মতে, বজ্রপাত ও মেঘের গর্জন মানুষের জন্য সতর্কবার্তাও হতে পারে। তাই এমন সময় অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে আল্লাহর স্মরণে মনোযোগী হওয়া উত্তম।বজ্রপাত ও বিদ্যুৎ চমকানোর সময় করণীয়১. আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করাপ্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ভয়ংকর পরিস্থিতিতে আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও হেফাজত কামনা করা উচিত।২. ইস্তিগফার ও তওবা করাঘন ঘন বজ্রপাত ও মেঘের গর্জনের সময় বেশি বেশি “আস্তাগফিরুল্লাহ” পাঠ করা এবং নিজের ভুল-ত্রুটির জন্য ক্ষমা চাওয়া উত্তম।৩. বৃষ্টি হলে দোয়া করাহাদিসে বর্ণিত হয়েছে, বৃষ্টির সময় দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই নিজের, পরিবারের ও দেশের কল্যাণে দোয়া করা যেতে পারে।৪. অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়াইসলাম জীবন রক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছে। তাই বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, গাছের নিচে বা উঁচু স্থানে অবস্থান না করাই নিরাপদ।৫. আল্লাহর ক্ষমতা স্মরণ করাবিদ্যুতের ঝলকানি ও বজ্রধ্বনি মানুষের সীমাবদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই অহংকার পরিহার করে বিনয়ী হওয়া উচিত।বৃষ্টির সময় একটি মাসনুন দোয়াবৃষ্টি শুরু হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) এ দোয়া পড়তেন—اللَّهُمَّ صَيِّبًا نَافِعًاউচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাইয়িবান নাফিআ।অর্থ: “হে আল্লাহ! এই বৃষ্টিকে উপকারী বৃষ্টি বানিয়ে দিন।”উপসংহারবৃষ্টি আল্লাহর রহমত, আর বজ্রপাত তাঁর মহাশক্তির একটি নিদর্শন। তাই ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকানো ও বজ্রপাতের সময় আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি আল্লাহর কাছে দোয়া, ইস্তিগফার ও তওবায় মনোযোগী হওয়াই একজন মুমিনের জন্য উত্তম পথ। এমন মুহূর্তগুলো মানুষকে মহান রবের প্রতি আরও বেশি নির্ভরশীল হতে শেখায়।