নওগাঁ জেলায় বয়স্ক নারীদের টার্গেট করে কথিত ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ নামে পরিচিত একটি রাসায়নিক ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে একটি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। নওগাঁ পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত অভিযানে টাঙ্গাইল থেকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত কয়েক মাসে নওগাঁ শহরের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বয়স্ক নারী প্রতারণার শিকার হন। অভিযোগ রয়েছে, সংঘবদ্ধ এই চক্রটি বিশেষ ধরনের রাসায়নিক (স্কোপোলামিন) ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের সাময়িকভাবে বিভ্রান্ত বা নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় নিয়ে যায়। এরপর তাদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় মোট তিনটি মামলা দায়ের হয়। মামলাগুলোর তদন্তে জেলা গোয়েন্দা শাখা তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানতে পারে, চক্রটির সদস্যরা টাঙ্গাইলে একই ধরনের অপরাধ সংঘটনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এ তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় একটি বিশেষ টিম টাঙ্গাইলে অভিযান চালায়। অভিযানে টাঙ্গাইল পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন— আবু হাসান, বাবু ও সবুজ। তাদের সবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার চনপাড়া এলাকায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা পুলিশকে জানিয়েছেন, তাদের চক্রটি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়। চক্রটির একাধিক গ্রুপ দেশের বিভিন্ন জেলায় সক্রিয় রয়েছে। তারা নওগাঁ, নারায়ণগঞ্জ, খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকায় একই কৌশলে প্রতারণার ঘটনা ঘটিয়েছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ১০টি অপরাধ সংঘটনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “এই চক্রের সদস্যরা সাধারণত বয়স্ক নারীদের টার্গেট করে। প্রথমে একজন সদস্য সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে বলে ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে। পরে আরও কয়েকজন সদস্য সেখানে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন কৌশলে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করে। একপর্যায়ে রাসায়নিক প্রয়োগের মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে বিভ্রান্ত করে তার কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও টাকা-পয়সা নিয়ে নেয়।”
তিনি আরও বলেন, “নওগাঁ জেলা পুলিশ এ ধরনের সংঘবদ্ধ প্রতারণা ও অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।