চাকরির জন্য যখন অসংখ্য তরুণ দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন, তখন সিরাজগঞ্জের এক যুবক ভিন্ন পথ বেছে নিয়ে পেয়েছেন সাফল্যের দেখা। মাত্র আড়াই লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে ফুল চাষ শুরু করে তিন মাসের মধ্যেই আশার আলো দেখছেন তিনি। তার বাগানে এখন ফুটছে গোলাপ ও রজনীগন্ধা, আর সেই সঙ্গে ফুটছে স্বপ্ন ও সম্ভাবনার গল্প।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের সড়াতৈল এলাকার যুবক নুরে আলম সজীব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফুল চাষের বিভিন্ন সফলতার গল্প দেখে অনুপ্রাণিত হন। এরপর চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেই কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই চিন্তা থেকেই শুরু করেন বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ।
বর্তমানে তার বাগানে বিভিন্ন জাতের গোলাপ ও রজনীগন্ধা ফুলের চাষ হচ্ছে। বছরজুড়ে এসব ফুলের চাহিদা থাকায় বাজার নিয়ে তেমন কোনো দুশ্চিন্তা নেই বলে জানান তিনি। ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ফুল বিক্রি করেছেন সজীব। ভবিষ্যতে এ বাগান থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকার ফুল বিক্রির আশা করছেন তিনি।সজীব বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফুল চাষের সফলতার গল্প দেখে আমি উদ্বুদ্ধ হই। এরপর নিজেই উদ্যোগ নিয়ে ফুল চাষ শুরু করি। সরকারি সহযোগিতা পেলে আরও বড় পরিসরে চাষাবাদ করতে চাই।”
শুধু নিজের সফলতাই নয়, সজীবের উদ্যোগে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তার ফুল বাগানে বর্তমানে তিনজন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন। ফুল চাষ থেকে পাওয়া আয় দিয়েই তারা পরিবারের খরচ নির্বাহ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় আগে তেমন কোনো ফুল চাষ ছিল না। সজীবের সফলতা দেখে এখন অনেক তরুণ ফুল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। তারা মনে করছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও পরিশ্রম থাকলে ফুল চাষ লাভজনক উদ্যোগ হতে পারে।সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাসিম উদ্দিন বলেন, ফুল চাষ সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও মাঠ পর্যায়ের সহযোগিতা প্রদান করছে। পাশাপাশি ফুলের বাজারজাতকরণ ও বিপণনের ক্ষেত্রেও কৃষকদের সহায়তা করা হবে।যেখানে বেকারত্ব নিয়ে হতাশার কথা বেশি শোনা যায়, সেখানে নুরে আলম সজীবের এই উদ্যোগ প্রমাণ করছে—সঠিক পরিকল্পনা, সাহস ও পরিশ্রম থাকলে কৃষিও হতে পারে আত্মনির্ভরতার অন্যতম বড় মাধ্যম।