ডিমের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে সিরাজগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের জন্য ডিম বিক্রি বন্ধ ঘোষণা করেছেন জেলার পোল্ট্রি খামারিরা। তাদের এ সিদ্ধান্তের প্রভাব ইতোমধ্যে স্থানীয় বাজারে পড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন বাজারে ডিমের সরবরাহ কমে সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
রবিবার (২১ জুন) বিকেলে জেলার খামার মালিকরা জানান, উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দামে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় তারা লোকসানের মুখে পড়েছেন। এ পরিস্থিতিতে শনিবার সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল এলাকায় অনুষ্ঠিত খামারিদের এক বৈঠকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ডিম বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেলার বিভিন্ন ফার্ম ফিডের মালিকেরা জানান, বর্তমানে একটি ডিম উৎপাদনে প্রায় ৯ টাকা খরচ হলেও খামারিদের কাছ থেকে ডিম কেনা হচ্ছে ৭ টাকা ৭০ পয়সা পর্যন্ত দরে। এতে উৎপাদন খরচই উঠছে না। দীর্ঘদিন ধরে লোকসান গুনতে হওয়ায় খামারিরা এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
খামারিদের অভিযোগ, একটি অসাধু ব্যবসায়ী চক্র সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণ করছে। সদর উপজেলার শিয়ালকোল এলাকার খামারি লোকমান হোসেন বলেন, খামারিরা ডিম উৎপাদন করলেও মূল্য নির্ধারণ করছেন কিছু ব্যবসায়ী। তারা কম দামে ডিম কিনে বেশি দামে বিক্রি করছেন। এতে প্রকৃত উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। খাদ্য, ওষুধ, শ্রমিকসহ খামার পরিচালনার সব ধরনের খরচ বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে ডিমের দাম বাড়েনি। ফলে অনেক খামারি ইতোমধ্যে খামার বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি বাজারে সিন্ডিকেট বন্ধ এবং উৎপাদন খরচ বিবেচনায় ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এদিকে খামারিদের ডিম বিক্রি বন্ধের কারণে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। শহরের এক ডিম ব্যবসায়ী বলেন, খামার থেকে আগের মতো ডিম পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
ক্রেতারা বলছেন, ডিম সাধারণ মানুষের অন্যতম নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য। বাজারে সংকট তৈরি হলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়বে। তাই দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আনোয়ারুল হক বলেন, ডিমের মূল্য সরকার নির্ধারণ করে। কোনো ব্যবসায়ী বা ব্যাপারী ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করতে পারেন না। বর্তমানে বাজারে ডিমের চাহিদা কম থাকায় দাম কিছুটা কম রয়েছে বলেও জানান তিনি।