ঢাকা    শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শিরোনাম নিউজ

বাংলাদেশও একবার 'সেভেন আপ' খাইয়েছে ব্রাজিলকে



বাংলাদেশও একবার 'সেভেন আপ' খাইয়েছে ব্রাজিলকে
এআই নির্মিত ছবি

ব্রাজিলকে ৭-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ— এমন কথা শুনলে অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক যুব ফুটবলের এক আসরে বাংলাদেশের কিশোরদের কাছে এমনই এক স্মরণীয় পরাজয়ের মুখে পড়েছিল ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিল। বিশ্বকাপের উন্মাদনা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ফের আলোচনায় এসেছে সেই ইতিহাস, পাশাপাশি ব্রাজিলের ‘সেভেন আপ’ ট্র্যাজেডিগুলোও।

জানা যায়, ১৯৯০ সালে ‘বাংলা একাদশ’ নামে বাংলাদেশের একটি অনূর্ধ্ব-১৪ দল ইউরোপে অনুষ্ঠিত ডানা কাপ ও গথিয়া কাপে অংশ নেয়। সেই আসরের এক ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল ব্রাজিলের অনূর্ধ্ব-১৪ দল। ম্যাচটিতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে ব্রাজিলকে ৭-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশের কিশোররা।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) গণমাধ্যম উপদেষ্টা তৌহিদ ফিরোজের বর্ণনা অনুযায়ী, ব্রাজিলের তরুণ ফুটবলাররা তাদের ঐতিহ্যবাহী হলুদ জার্সি পরেই মাঠে নেমেছিল। শুধু ব্রাজিল নয়, ফাইনালে ওঠার পথেও বেশ কয়েকটি শক্তিশালী দলকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলা একাদশ। সে সময় দেশের সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এদিকে ফুটবল ইতিহাসে ‘সেভেন আপ’ শব্দটি সবচেয়ে বেশি জড়িয়ে আছে ব্রাজিলের নামের সঙ্গে। ২০০২ বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে প্রতিটি আসরে ব্রাজিল সমর্থকদের স্বপ্ন ছিল ‘হেক্সা’ জয়ের। কিন্তু ২০১৪ বিশ্বকাপে ঘরের মাঠেই ইতিহাসের অন্যতম বড় লজ্জার সাক্ষী হতে হয় সেলেসাওদের।

২০১৪ সালের ৮ জুলাই বেলো হরিজন্তের মিনেইরাও স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে জার্মানির মুখোমুখি হয় ব্রাজিল। নেইমার ও থিয়াগো সিলভাকে ছাড়া মাঠে নামা স্বাগতিকদের রীতিমতো বিধ্বস্ত করে জার্মানি। ম্যাচের মাত্র ২৯ মিনিটেই ৫-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা। শেষ পর্যন্ত অস্কারের একটি সান্ত্বনাসূচক গোল সত্ত্বেও ৭-১ ব্যবধানের লজ্জাজনক হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।

তবে ব্রাজিলের জালে ৭ বা তার বেশি গোল ঢোকার ঘটনা প্রথম নয়। ইতিহাস বলছে, ১৯৩৪ সালের ৩ জুন বেলগ্রেডে প্রীতি ম্যাচে তৎকালীন যুগোস্লাভিয়ার কাছে ৮-৪ গোলে হেরেছিল ব্রাজিল। ম্যাচের শুরুতে এগিয়ে গেলেও পরে যুগোস্লাভ আক্রমণের সামনে ভেঙে পড়ে সেলেসাওদের রক্ষণভাগ। সেটিই ছিল ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রথম ‘সেভেন আপ’ অধ্যায়।

এরপর দীর্ঘ প্রায় ৮০ বছর কোনো দল ব্রাজিলের জালে ৭ গোল দিতে পারেনি। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি সময়ের সঙ্গে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। কিন্তু ২০১৪ সালে জার্মানি সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ম্যাচ উপহার দেয়।

বিশ্বকাপ এলেই তাই ব্রাজিলের গৌরবময় সাফল্যের পাশাপাশি ফিরে আসে ‘সেভেন আপ’-এর তিক্ত স্মৃতিও। আর বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য গর্বের বিষয় হলো— ব্রাজিলকে বড় ব্যবধানে হারানোর সেই বিরল তালিকায় একবার জায়গা করে নিয়েছিল বাংলাদেশেরই একদল কিশোর ফুটবলার।

বিষয় : বিশ্বকাপ ফুটবল ব্রাজিল আর্জেন্টিনা

শিরোনাম নিউজ

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


বাংলাদেশও একবার 'সেভেন আপ' খাইয়েছে ব্রাজিলকে

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬

featured Image

ব্রাজিলকে ৭-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ— এমন কথা শুনলে অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক যুব ফুটবলের এক আসরে বাংলাদেশের কিশোরদের কাছে এমনই এক স্মরণীয় পরাজয়ের মুখে পড়েছিল ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিল। বিশ্বকাপের উন্মাদনা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ফের আলোচনায় এসেছে সেই ইতিহাস, পাশাপাশি ব্রাজিলের ‘সেভেন আপ’ ট্র্যাজেডিগুলোও।

জানা যায়, ১৯৯০ সালে ‘বাংলা একাদশ’ নামে বাংলাদেশের একটি অনূর্ধ্ব-১৪ দল ইউরোপে অনুষ্ঠিত ডানা কাপ ও গথিয়া কাপে অংশ নেয়। সেই আসরের এক ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল ব্রাজিলের অনূর্ধ্ব-১৪ দল। ম্যাচটিতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে ব্রাজিলকে ৭-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশের কিশোররা।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) গণমাধ্যম উপদেষ্টা তৌহিদ ফিরোজের বর্ণনা অনুযায়ী, ব্রাজিলের তরুণ ফুটবলাররা তাদের ঐতিহ্যবাহী হলুদ জার্সি পরেই মাঠে নেমেছিল। শুধু ব্রাজিল নয়, ফাইনালে ওঠার পথেও বেশ কয়েকটি শক্তিশালী দলকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলা একাদশ। সে সময় দেশের সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এদিকে ফুটবল ইতিহাসে ‘সেভেন আপ’ শব্দটি সবচেয়ে বেশি জড়িয়ে আছে ব্রাজিলের নামের সঙ্গে। ২০০২ বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে প্রতিটি আসরে ব্রাজিল সমর্থকদের স্বপ্ন ছিল ‘হেক্সা’ জয়ের। কিন্তু ২০১৪ বিশ্বকাপে ঘরের মাঠেই ইতিহাসের অন্যতম বড় লজ্জার সাক্ষী হতে হয় সেলেসাওদের।

২০১৪ সালের ৮ জুলাই বেলো হরিজন্তের মিনেইরাও স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে জার্মানির মুখোমুখি হয় ব্রাজিল। নেইমার ও থিয়াগো সিলভাকে ছাড়া মাঠে নামা স্বাগতিকদের রীতিমতো বিধ্বস্ত করে জার্মানি। ম্যাচের মাত্র ২৯ মিনিটেই ৫-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা। শেষ পর্যন্ত অস্কারের একটি সান্ত্বনাসূচক গোল সত্ত্বেও ৭-১ ব্যবধানের লজ্জাজনক হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।

তবে ব্রাজিলের জালে ৭ বা তার বেশি গোল ঢোকার ঘটনা প্রথম নয়। ইতিহাস বলছে, ১৯৩৪ সালের ৩ জুন বেলগ্রেডে প্রীতি ম্যাচে তৎকালীন যুগোস্লাভিয়ার কাছে ৮-৪ গোলে হেরেছিল ব্রাজিল। ম্যাচের শুরুতে এগিয়ে গেলেও পরে যুগোস্লাভ আক্রমণের সামনে ভেঙে পড়ে সেলেসাওদের রক্ষণভাগ। সেটিই ছিল ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রথম ‘সেভেন আপ’ অধ্যায়।

এরপর দীর্ঘ প্রায় ৮০ বছর কোনো দল ব্রাজিলের জালে ৭ গোল দিতে পারেনি। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি সময়ের সঙ্গে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। কিন্তু ২০১৪ সালে জার্মানি সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ম্যাচ উপহার দেয়।

বিশ্বকাপ এলেই তাই ব্রাজিলের গৌরবময় সাফল্যের পাশাপাশি ফিরে আসে ‘সেভেন আপ’-এর তিক্ত স্মৃতিও। আর বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য গর্বের বিষয় হলো— ব্রাজিলকে বড় ব্যবধানে হারানোর সেই বিরল তালিকায় একবার জায়গা করে নিয়েছিল বাংলাদেশেরই একদল কিশোর ফুটবলার।


শিরোনাম নিউজ

ব্যবস্থাপনা পরিচালকঃ মহসীন রেজা বিপ্লব
সম্পাদকঃ আব্দুস সামাদ সায়েম
প্রকাশকঃ রাব্বি হাসান হৃদয়

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত শিরোনাম নিউজ