ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
শিরোনাম নিউজ

সরকার পতনের পর

বালুর ট্রাকের দাপটে আতঙ্কে কাজিপুর, ঝরছে প্রাণ


রাব্বি হাসান হৃদয়
রাব্বি হাসান হৃদয়
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

বালুর ট্রাকের দাপটে আতঙ্কে কাজিপুর, ঝরছে প্রাণ
ছবিঃ শিরোনাম নিউজ

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে যমুনা থেকে উত্তোলিত বালু পরিবহনে দিন-রাত অবাধে চলছে ভারী ড্রাম ট্রাক। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা বালুর পয়েন্ট থেকে এসব ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বালু সরবরাহ করা হচ্ছে। আঞ্চলিক ও মহাসড়কে অতিরিক্ত বালুবাহী ট্রাকের চলাচলে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সড়ক। পাশাপাশি বালুর ধুলায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার পরিবর্তনের পর কাজিপুরে বালুর পয়েন্টের সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে। এসব পয়েন্ট থেকে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টাই বড় বড় ড্রাম ট্রাকে বালু পরিবহন করা হচ্ছে। ফলে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে সাধারণ যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোরে সিরাজগঞ্জ-কাজিপুর মহাসড়কের শিমুলদাইড় এলাকায় বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় নুরজাহান আক্তার নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। এর আগে ১৭ জুলাই কাজিপুর উপজেলার পাটাগ্রাম রোড এলাকায় বালুবাহী ট্রাকের চাপায় বাদশা মিয়া নামে এক ভ্যানচালক নিহত হন।

স্থানীয় ভ্যানচালকদের ভাষ্য, সড়কে বড় বড় বালুবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকতে হয় তাদের। বিশেষ করে বিপরীত দিক থেকে একই সময়ে ভারী ট্রাক আসলে ছোট যানবাহন নিয়ে নিরাপদে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়ে যায়।

সোনামুখী ও শিমুলদাইড় এলাকার কয়েকজন ভ্যানচালক বলেন, ‘বালুবাহী ট্রাকের কারণে রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালাতে ভয় লাগে। বড় ট্রাকগুলো বিপরীত দিক থেকে এলে রাস্তা ছোট হয়ে যায়। কখন কী হয়, সেই আতঙ্কে থাকতে হয়।’

মেঘাই এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আগে কাজিপুরের সড়কে এত বেশি বালুবাহী ট্রাক দেখা যেত না। তাদের দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর বালুর পয়েন্ট ও ট্রাক চলাচল দুটিই বেড়েছে।

শুধু দুর্ঘটনার ঝুঁকি নয়, অতিরিক্ত ভারী যান চলাচলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হচ্ছে খানাখন্দ। এতে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

এদিকে বালুবাহী ট্রাক চলাচলের সময় বাতাসে উড়ছে বালু। এতে অনেক এলাকায় ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে সড়ক ও আশপাশের পরিবেশ। দিনের বেলায় এসব সড়ক দিয়ে হাঁটার সময় নাক-মুখ ঢেকে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ পরিস্থিতি চললেও স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না।

মাঝেমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি বালুর পয়েন্টে অর্থদণ্ড করা হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, এতে পরিস্থিতির স্থায়ী পরিবর্তন হচ্ছে না। অভিযান শেষ হওয়ার পর আবারও আগের মতোই বালু পরিবহন শুরু হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, বালু পরিবহনের ক্ষেত্রে আইন ও বিধিমালা কঠোরভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার এবং অবৈধভাবে পরিচালিত বালুর পয়েন্টগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

দুর্ঘটনার আতঙ্ক, সড়কের ক্ষয়ক্ষতি ও বালুর ধুলায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন যমুনাবেষ্টিত কাজিপুরের মানুষ। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে বালুবাহী ট্রাকের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করা হবে-এমন প্রত্যাশাই এখন স্থানীয়দের।

বিষয় : সিরাজগঞ্জ কাজিপুর বালুবাহী ট্রাক

শিরোনাম নিউজ

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বালুর ট্রাকের দাপটে আতঙ্কে কাজিপুর, ঝরছে প্রাণ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে যমুনা থেকে উত্তোলিত বালু পরিবহনে দিন-রাত অবাধে চলছে ভারী ড্রাম ট্রাক। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা বালুর পয়েন্ট থেকে এসব ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বালু সরবরাহ করা হচ্ছে। আঞ্চলিক ও মহাসড়কে অতিরিক্ত বালুবাহী ট্রাকের চলাচলে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সড়ক। পাশাপাশি বালুর ধুলায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার পরিবর্তনের পর কাজিপুরে বালুর পয়েন্টের সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে। এসব পয়েন্ট থেকে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টাই বড় বড় ড্রাম ট্রাকে বালু পরিবহন করা হচ্ছে। ফলে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে সাধারণ যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোরে সিরাজগঞ্জ-কাজিপুর মহাসড়কের শিমুলদাইড় এলাকায় বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় নুরজাহান আক্তার নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। এর আগে ১৭ জুলাই কাজিপুর উপজেলার পাটাগ্রাম রোড এলাকায় বালুবাহী ট্রাকের চাপায় বাদশা মিয়া নামে এক ভ্যানচালক নিহত হন।

স্থানীয় ভ্যানচালকদের ভাষ্য, সড়কে বড় বড় বালুবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকতে হয় তাদের। বিশেষ করে বিপরীত দিক থেকে একই সময়ে ভারী ট্রাক আসলে ছোট যানবাহন নিয়ে নিরাপদে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়ে যায়।

সোনামুখী ও শিমুলদাইড় এলাকার কয়েকজন ভ্যানচালক বলেন, ‘বালুবাহী ট্রাকের কারণে রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালাতে ভয় লাগে। বড় ট্রাকগুলো বিপরীত দিক থেকে এলে রাস্তা ছোট হয়ে যায়। কখন কী হয়, সেই আতঙ্কে থাকতে হয়।’

মেঘাই এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আগে কাজিপুরের সড়কে এত বেশি বালুবাহী ট্রাক দেখা যেত না। তাদের দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর বালুর পয়েন্ট ও ট্রাক চলাচল দুটিই বেড়েছে।

শুধু দুর্ঘটনার ঝুঁকি নয়, অতিরিক্ত ভারী যান চলাচলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হচ্ছে খানাখন্দ। এতে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

এদিকে বালুবাহী ট্রাক চলাচলের সময় বাতাসে উড়ছে বালু। এতে অনেক এলাকায় ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে সড়ক ও আশপাশের পরিবেশ। দিনের বেলায় এসব সড়ক দিয়ে হাঁটার সময় নাক-মুখ ঢেকে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ পরিস্থিতি চললেও স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না।

মাঝেমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি বালুর পয়েন্টে অর্থদণ্ড করা হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, এতে পরিস্থিতির স্থায়ী পরিবর্তন হচ্ছে না। অভিযান শেষ হওয়ার পর আবারও আগের মতোই বালু পরিবহন শুরু হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, বালু পরিবহনের ক্ষেত্রে আইন ও বিধিমালা কঠোরভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার এবং অবৈধভাবে পরিচালিত বালুর পয়েন্টগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

দুর্ঘটনার আতঙ্ক, সড়কের ক্ষয়ক্ষতি ও বালুর ধুলায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন যমুনাবেষ্টিত কাজিপুরের মানুষ। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে বালুবাহী ট্রাকের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করা হবে-এমন প্রত্যাশাই এখন স্থানীয়দের।


শিরোনাম নিউজ

ব্যবস্থাপনা পরিচালকঃ মহসীন রেজা বিপ্লব
সম্পাদকঃ আব্দুস সামাদ সায়েম
প্রকাশকঃ রাব্বি হাসান হৃদয়

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত শিরোনাম নিউজ