সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বারুহাস বাজারে কয়েকটি কুকুরকে নির্মমভাবে হত্যা ও আহত করার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাণীপ্রেমী, স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বারুহাস বাজারের জুতা ব্যবসায়ী মো. জয়নুল আবেদীন ওরফে জুলু খন্দকারের একটি ছাগল কয়েকদিন আগে বাজারের একটি কুকুরের কামড়ের শিকার হয়। এর জেরে তিনি দেশীয় ধারালো লোহার ফালা জাতীয় অস্ত্র তৈরি করে সোমবার (১৫ জুন) রাতে কয়েকটি কুকুরের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলায় দুটি কুকুর মারা যায় এবং আরও কয়েকটি কুকুর গুরুতর আহত হয়। আহত একটি কুকুরের শরীর ভেদ করে অস্ত্রটি এপার-ওপার হয়ে যাওয়ার দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভের জন্ম দেয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই বিষয়টিকে চরম নিষ্ঠুরতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
প্রাণীপ্রেমী সংগঠন ‘ভিলেজ ভিশন’-এর পরিচালক শরীফ খন্দকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, কোনো প্রাণীর প্রতি এমন নিষ্ঠুর আচরণ সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়।
স্থানীয় কলেজ শিক্ষক ও সাংবাদিক জাকির আকন্দ বলেন, ইসলামসহ সব ধর্মেই প্রাণীর প্রতি সহানুভূতি ও দয়া প্রদর্শনের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী মো. মেহেদী হাসান নিরব বলেন, “ঘটনাটি সামনে থেকে দেখে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। এমন দৃশ্য সত্যিই হৃদয়বিদারক।”
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে তাড়াশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ জেড এম নাহিদ হাসান এবং তাড়াশ থানা পুলিশ অভিযুক্তের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালান। তবে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি পরিবারসহ আত্মগোপনে চলে গেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জয়নুল আবেদীনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ জেড এম নাহিদ হাসান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নজরে আসার পর প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। অভিযুক্তকে না পাওয়ায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপও গ্রহণ করা হবে।