ঢাকা    বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
শিরোনাম নিউজ

ফেইস অফ টুমরো আমাকে একটি বুস্ট আপ দিয়েছে: তমাল

তমালের মিডিয়া ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল মডেলিং দিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই। মনে ইচ্ছা জাগে সে মডেলিং করবে, অভিনয় করবে। আশেপাশের মানুষ প্রভোক করতো এই বলে-"তুমি তো দেখতে হিরোর মত তোমার মডেলিং করা উচিত, সিনেমায় কাজ করা উচিত।" তো সেখান থেকেই তমালের নিজেরও মনে ইচ্ছা জাগে। তখন তাই নিজেই ছবি তুলে সেগুলো ফেসবুকে আপলোড করতেন ও ফটোগ্রাফার বন্ধুদের দিয়ে ছবি তোলাতেন এবং স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করতেন। এভাবে একদিন প্লাস পয়েন্ট নামে এক জনপ্রিয় ক্লোথিং ব্র্যান্ড থেকে তমালের একটি ফটোশুটের অফার আসে। সেখান থেকেই মূলত শুরু। এরপর আস্তে আস্তে বিভিন্ন ব্র্যান্ড থেকে কাজের জন্য ফোন আসতে শুরু করে এবং তমাল মোটামুটি নিয়মিত মডেলিংয়ে কাজ পেতে শুরু করে। দু একটা মিউজিক ভিডিওতেও কাজ করেছিলেন তমাল। কিন্তু অভিনয়ের ইচ্ছা তো পূরণ হচ্ছিলো না। সেটা কিভাবে কি করা যায়!  তবে তমাল এটুকু বুঝতেন যে অভিনয় করতে হলে অভিনয় শিখতে হবে, আয়ত্ত করতে হবে। একদিন তমালের এক মডেল ভাই তাকে প্রাচ্যনাট থিয়েটারের কথা জানান। সেখান থেকেই  প্রাচ্যনাট স্কুলে ভর্তি হয় এবং সেখান থেকেই অভিনয়ের যাত্রা শুরু হয় তমালের। তমাল বলেন, প্রাচ্যনাটে স্কুলিং শেষ করে আমি সিদ্ধান্ত নেই অভিনয়টা আমাকে সারাজীবন করতে হলে, আমাকে এটা চর্চা করে যেতে হবে তাই আমি প্রাচ্যনাট দলে যোগ দেই এবং একই সাথে আমি নিকেতনের একটিডান্স ফ্লোরে কোরিওগ্রাফার ফ্লাই ফারুকের কাছে নাচ শেখাও শুরু করি যাতে করে আমার শারিরীক ফ্লেক্সিবিলিটি বাড়ানো যায়। থিয়েটার এবং নাচ আমি কন্টিনিউ করে যাই। আমি একইসাথে ফিটনেস নিয়েও সবসময় খুব আগ্রহী যে কারণে নিজেকে ফিট রাখার জন্য আমি মার্শাল আর্ট ও জিমনাস্টিক প্র্যাকটিস করতে থাকি। এর মধ্যেও আমি বিভিন্ন রকম অডিশনে অংশ নিয়েছি অভিনয়ের জন্য যার বেশিরভাগ থেকে আমি প্রত্যাখ্যাত হই। কিন্তু আমি জানতাম এটাই প্রসেস। জিততে হলে আমাকে বারবার হারতে হবে এবং পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে হবে।একবার না পারলে শতবার আমাকে চেষ্টা করতে হবে। তাই আমি শেখা কখনই বন্ধ করিনি। ধীরে ধীরে আমি কিছু নাটকে এবং ওয়েবের কাজে কম স্ক্রিন টাইমের কিছু চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাই এবং সেখান থেকে মিডিয়াতে বেশ কিছু কাজ করার অভিজ্ঞতা হয় আমার। কিন্তু আমার লক্ষ্য ছিল বড় এবং গল্পের প্রধান চরিত্র হয়ে ওঠা।এভাবেই সময় এগোতে থাকে এবং একদিন আমি সোশ্যাল মিডিয়ার ফেস অফ টুমোরোর সম্পর্কে জানতে পারি এবং এতে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেই। আমি চিন্তা করি- আমি এতদিনে কতটুকু কি শিখেছি নিজেকে জাজ করার একটা ভালো প্ল্যাটফর্ম পারে ফেস অফ টুমরো আমার জন্য।তমাল আরো বলেন, অডিশনে সিলেক্ট হবার পর আমি প্রত্যেকটা রাউন্ডেই চেষ্টা করেছি আমার সর্বোচ্চ পারফরমেন্স টুকু দিতে এবং আমার যেসব কমতি আছে সেগুলোকে খুঁজে বের করতে। শেষ পর্যন্ত আমি সেকেন্ড রানার হিসেবে এই শোতে বিজয়ীদের একজন নির্বাচিত হই। তবে আমি মনে করি এটি আমার যাত্রার কেবল শুরু। ফেইস অফ টুমরো আমাকে একটি বুস্ট আপ দিয়েছে, আমার কনফিডেন্স বাড়িয়ে দিয়েছে, আমাকে পরবর্তী কাজে আরো মনোযোগ, ধৈর্য এবং সততার সাথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছে।আমি চাই জীবনে একজন ভালো অভিনয়শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং অভিনয় দিয়ে সবার মন জয় করে সবার ভালোবাসা অর্জন করতে।

ফেইস অফ টুমরো আমাকে একটি বুস্ট আপ দিয়েছে: তমাল