সিরাজগঞ্জের সলঙ্গার ধুবিল ইউনিয়নের ইছিদহে আদালতের জারি করা ১৪৪ ধারা অমান্য করে একটি বিরোধপূর্ণ জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ ফরহাদ আলীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এঘটনায় চম্পা খাতুন সলঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমির একটি অংশে টিন ও বাঁশ দিয়ে ছাপড়া ঘর নির্মাণ করেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,সলঙ্গা থানার ধুবিল ইউনিয়নের নৈপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোছা. চাম্পা খাতুন তার পৈতৃক সূত্রে ইছিদাহ মৌজায় ৩৪. ৫০ শতক জমির মালিক। কিন্তু তার ভাই ফরহাদ আলীসহ কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে জমি দখলের চেষ্টা করে।ভুক্তভোগী চাম্পা খাতুন বলেন, আমার জমিসহ আমার ভাই অবৈধ ভাবে খারিজ করে নেন। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পূর্বে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। আদালত এই জমির উপরে ১৪৪ ধারা জারি করেন। আমার ভাই ফরহাদ আলী নিজেই ১৪৪ ধারা আবেদন করলে ঐ স্থানে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করে, দুই পক্ষই সেই স্থানে যেতে পারবে না বলে নোটিশ পাঠায়,কিন্তু এরই মধ্যে গত ১ জুন ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৩ টার দিকে অভিযুক্তরা তার পৈতৃক জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে টিন ও বাঁশ দিয়ে একটি ঘর নির্মাণ শুরু করেন। প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা আমাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন চাম্পা খাতুন ।অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ফরহাদ আলী দাবি করেছে, জমির ওপর তাদের বৈধ অধিকার রয়েছে। এই জমি তাদের পাশে যে জমি রয়েছে সেই জমি আমার বোনের।ফরহাদ আলী প্রকাশ্যে বলেন, আমার জমিতে আমি ঘর উঠাবো কেউ আসলে জীবিত যেতে দেবে না। এখানে লাশ পুতে রাখা হবে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে এবং বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।এলাকাবাসীর কয়েকজন জানান, আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও জমিতে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান দাবি করেছেন।এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এ এস আই) মাসুদ রানা বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশনা অমান্য করার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।