ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে কাজিপুরে প্রতারণার অভিযোগ
সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জুনাইদ হোসেন সবুজের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে কাজিপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী আষাঢ় সরকারের বিরুদ্ধে।অভিযোগ রয়েছে, নিজেকে বিভিন্ন মহল থেকে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে—এমন দাবি তুলে আষাঢ় সরকার একের পর এক কল রেকর্ড, ভিডিও ফুটেজ ও বিভিন্ন তথ্য সাংবাদিকদের কাছে পাঠাতে থাকেন। তবে এসব তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে এবং কয়েকজন সাংবাদিক এ ধরনের অভিযোগভিত্তিক সংবাদ প্রকাশে অনাগ্রহ প্রকাশ করলে নতুন কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।সাংবাদিকদের দাবি, পরবর্তীতে সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জুনাইদ হোসেন সবুজের ছবি ব্যবহার করে একটি ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে সেখান থেকে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশের অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে নিজেকে জেলা ছাত্রদল সভাপতির ‘ভাগিনা’ পরিচয় দিয়েও একাধিকবার সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে সাংবাদিকরা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জুনাইদ হোসেন সবুজের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় তিনি জানান, আষাঢ় নামের কাউকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাদের যেটা কাজ, আপনারা সেটাই করবেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এদিকে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আষাঢ় সরকারের মদ্যপানের একটি ছবি ভাইরাল হয়। ছবিটি সম্পর্কে আষাঢ় সরকার দাবি করেন, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি। যদিও বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি ও একজন পুলিশ সদস্য সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আষাঢ় সরকার নিজেই একসময় মাদক কারবার ও নারী কেলেঙ্কারির মতো কাজের সাথে লিপ্ত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি পদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের বিতর্ক ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।